সাভারের আশুলিয়ার বিশমাইল-জিরাবো সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগে লাখো মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার,ঢাকা জেলাঃ

ঢাকার অদূরে শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ার বিশমাইল-জিরাবো সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে শত শত যাত্রীবাহী ছোট-বড় পরিবহন ও মালবাহী গাড়ি দিয়ে যাতায়াতের সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।

এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদামাটিসহ ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার কারখানা ও পরিবহন শ্রমিকরা। ওই সব গর্তের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় অটোরিকশা, ইজিবাইক, মালবাহী গাড়ি, কিংবা যাত্রীবাহী ছোট ছোট যানবাহন উল্টে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনাও ঘটছে।

বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাভার উপজেলার বিশমাইল-জিরাবো আঞ্চলিক সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশা, বাস-ট্রাক ও বিভিন্ন শিল্পকারখানার যানবাহনসহ হাজারো পরিবহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় পুরো রাস্তায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে সেখানে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জিরাব থেকে কাঠগড়া আমতলা পর্যন্ত এ সড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক যে রিকশা-ভ্যানতো দূরের কথা, খালি পায়ে হেঁটে চলাচলও দুরূহ ব্যাপার। প্রতিদিনই এ সড়কে চলাচলরত যানবাহন ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। উল্টে যাচ্ছে রিকশা, অটোরিকশা এবং রাস্তার মাঝখানে আটকে যাচ্ছে ভারি যানবাহন। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। আর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ সড়ক দিয়ে চলাচলরত লাখো মানুষের।

কাঠগড়া এলাকার খোরশেদ আলম, রনি মিয়া, আজগর আলী ও স্বপন মিয়া জানান, এই রাস্তাটিতে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার অটোরিকশা ও নানান ধরনের ছোট-বড় ভারি যানবাহন, বিভিন্ন কলকারখানার জরুরি রপ্তানি কাজে নিয়োজিত বড় বড় লরি অহরহ চলাচল করে। এতে করে ভাঙা রাস্তায় দীর্ঘ জ্যাম ও ভোগান্তিতে পরে মানুষের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

ষাটোর্ধ্ব আব্দুল মোতালেব নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বিগত পাঁচ বছর আগে এ রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। সড়ক সংস্কারের সময় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং তিতাসের গ্যাসলাইন বসাতে গিয়ে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তায় পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়ে এমন অবস্থায় এসেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এক ডিম ব্যবসায়ী জানান, আমার একমাত্র ব্যবসার মূলধন ২ হাজার ডিমের ভ্যান উল্টে গিয়ে সব ডিম ভেঙে পানিতে মিশে যাওয়ায় আজ পরিবার পরিজনকে নিয়ে ভীষণ কষ্টে আছি। আমরা মত খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কষ্ট দেখার মতো কি কেউ নেই?

অটোরিকশা চালক জালাল ও প্রাইভেটকার চালক সুলতান জানান, এ সড়কের দুই পাশেই ছোট-বড় শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। এখান দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক হেঁটে কিংবা বাসে করে কর্মস্থলে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছেন। বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে যানবাহনে যাওয়া তো দূরের কথা, হেঁটে যাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সব ধরনের শ্রেণি-পেশার মানুষকে। তারা যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

এছাড়া স্থানীয় এলাকাবাসী পথচারীসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ যতো দ্রুত সম্ভব এ সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তাই আমাদের সকলের প্রাণের দাবি বিশমাইল থেকে জিরাব পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি অতি দ্রুত তম সময়ের মধ্যে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হোক । সেই সাথে ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘোষ বাগ দিয়ে পুকুর পার পযন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা, জামগড়া চৌরাস্তা থেকে বাইপেল এর রাস্তার বেহাল অবস্থা। আমরা আশা করি অতি দ্রুত এর সমাধান হবে। হাজার হাজার মানুষের দুঃখ কষ্ট ভোগান্তি দুর হবে।

সবাই একটু ভাইরাল করেন, এই পোস্টটা। যাতে রাস্তাটা দ্রুত মেরামত করা হয়।

এই বিভাগের সর্বশেষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button