মহাসড়কে শ্রমিকের ভোগান্তির শেষ নেই

ইয়ামিন হোসেন পাটোয়ারী (কালিয়াকৈর)

গাজীপুরের কালিয়াকৈর চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই কর্মস্থলে ফেরা শ্রমিকদের জনস্রোত দেখা গেছে। গত কাল রাতে গনপরিবহন খুলে দেওয়া হলে রাস্তায় সৃষ্টি হয় যানজট। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের লম্বা লাইন দেখা যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরা শ্রমিকগন। অন্যদিকে গতকাল ৩১ই জুলাই রাত থেকে ০১ ই আগষ্ট দুপুর ১২ পর্যন্ত লঞ্চ ও গনপরিবহন চালু থাকলেও দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে আসতে হয় শ্রমিকের।

গত ৩০ই জুলাই গনপরিবহন বন্ধ রেখে শিল্প-কারখানা খোলার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বলা হয়েছে আগামী ১ আগষ্ট হইতে শিল্প-কারখানা খোলা। এমন খবর জানার সাথে সাথে কর্মস্থলে ছুটছে শ্রমিকেরা। এদিকে গনপরিবহন বন্ধ কিন্তু ছুটি আছে মাএ একদিন ৩১ই জুলাই ছুটি শেষ। একদিন পরই উপস্থিত হতে হবে কর্মস্থলে তাই গতকাল ৩১ জুলাই থেকেই যে যেভাবে পারছেন সে ভাবেই রওনা দিচ্ছেন। ট্রাক,পিকআপ,ভ্যান,রিক্সায় কয়েকগুন বেশি ভাড়া দিয়ে রওনা দেয় শ্রমিকেরা।

হঠাৎ এক দিন আগে এমন সিদ্ধান্তে দিশেহারা হয়ে যায় শিল্প-কারখানার শ্রমিকেরা। যে যেখানে ছিল সেখান থেকেই রওনা দেওয়া শুরু করে তারা। মহাসড়কে যাত্রীবাহী গাড়ি না থাকায় বিপাকে পড়ে শ্রমিকেরা ট্রাক,পিকআপ,ভ্যান,রিক্সায় কয়েকগুন ভাড়া দিয়ে আসতে শুরু করে গতকাল সকাল থেকেই। আবার অনেকে ট্রাক, পিকআপ, না পাওয়ায় রিক্সা, সিএনজি, ভাড়া করে ভেঙ্গে-ভেঙ্গে আসতে হয় গন্তব্য স্থানে। এতে রীতিমতো বিপাকে পড়তে হয় শ্রমিকের।

অনেকে গতকাল রাতে রওনা দেয়। রাস্তাঘাটে যানজট থাকায় সারা রাত গাড়িতে থাকতে হয় শ্রমিকের। আবার সকালে বিশ্রাম, ঘুম হারাম করে কাজে যোগদান করতে হয় অনেক শ্রমিক ভাই-বোনের।

রাসেল রানা নামে এক যাত্রী জানান, আমি একজন শ্রমিক হঠাৎ করে শিল্প-কারখানা চালু ঘোষণা দেওয়া আমি গত কাল রাতে সিরাজগঞ্জ থেকে রওনা দেই, রাস্তায় তীব্র যানজট থাকায় সকাল ০৭টায় চন্দ্রা এসেছি। দ্বিগুণ গাড়ী ভাড়া দিয়ে আসতে হয় আমার। তিনি আরো বলেন আমার অফিস সকাল ০৬টায় আমি চন্দ্রা এসেছি ০৭ টায় কখন অফিসে যাবো জানি না। অন্য দিকে সাইদুর নামে এক যাত্রী বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে রওনা দিয়ে সকাল ১১ টায় এসে চন্দ্রা পৌছাই। খুব কষ্ট হয়েছে আমার।

দেশে করোনা পরিস্থিতি খুবই ভয়ংকর এর মাঝেও খুলে দেওয়া হয়েছে শিল্প-কারখানা তাও আবার হঠাৎ করে এক দিন আগে জানায়। গ্রাম থেকে সাধারন শ্রমিকেরা যেভাবে এসেছে এভাবে
করোনা ছড়ায় না? হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত সরকারের নেওয়া উচিত হয়নি বলে মনে করেন অনেকে। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে যাতায়াতের জন্য পরিবহনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের হয়রানির করা হয়েছে রীতিমতো।

সরকারি সিদ্ধান্তের সাথে একমত ‘লকডাউন’ তথা ঘরে থাকাই এ মুহূর্তে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে দূরে থাকার একমাত্র উপায়। সে কারণে শ্রমজীবীদেরও ঘরে থাকা বাঞ্চনীয়। কিন্তু লকডাউন সময়ে শিল্প কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত ও অনভিপ্রেত।

এদিকে কারখানা খোলার খবরে গত বছরের মতো আবারো কয়েক লাখ শ্রমিক গণ-পরিবহনের অভাবে পায়ে হেঁটে, রিকশা, ভ্যান, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ নানাভাবে দুর্ভোগ সহ্য করে কারখানার অঞ্চলগুলোতে আসছেন। করোনার এ উর্ধ্বগতির সময়ে কোনরকম স্বাস্থ্যসম্মত পরিবহন এবং জীবনের নিরাপত্তা ছাড়া এভাবে শ্রমিকদের আসা-যাওয়া করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন শ্রমিক নিরাপওা ফোরাম।

এই বিভাগের সর্বশেষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button