শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান

শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান

১২ অক্টোবর, ২০২১ ২০:০৫মনিরুল ইসলাম মনিরুল ইসলাম, ঢাকা

শাহবাগে প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান
রাজধানীর শাহবাগে দেশের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক -কর্মচারীদের অবস্থান। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম অপু বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট। আমাদের স্কুলগুলো এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব। এমপিওভুক্তির স্বীকৃতি নিয়েই এখান থেকে আমরা যাব।’

এমপিওভুক্তির দাবিতে টানা ৩১ ঘণ্টার মতো রাজধানীর শাহবাগে অবস্থানে রয়েছে দেশের প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করবেন বলে জানান তারা।

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ব্যানারে সোমবার দুপুরে রাজধানীর শহীদ মিনার থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণ যাত্রা শুরু করেন দেশের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

পদযাত্রাটি শাহবাগে গেলে পুলিশ আটকে দেয়। তখন থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। রাতেও তারা সেখানেই অবস্থান করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ যে অর্থ সরকার দেয়, তাকে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিও বলা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল অনুযায়ী এই সহায়তা দেয় সরকার।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব প্রতিবন্ধী স্কুলগুলো মূলত সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের অধীনে। এসব স্কুলে প্রাথমিকের পাঁচটি শ্রেণির আগে ‘প্রাক প্রাথমিক ও প্রস্তুতিমূলক’ নামের একটি শ্রেণি রয়েছে। আর প্রাথমিকের পর শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেয়া হয়।

বৃত্তিমূলক শিক্ষা কী জানতে চাইলে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানো, অর্থাৎ কোনো কাজ শিখিয়ে তাকে স্বাবলম্বী হতে সহযোগিতা করা। এসব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা যেন সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারে, ভালো-মন্দ বুঝতে পারে এটাই আমাদের স্কুলগুলোর মূল লক্ষ্য।’

সারা দেশ থেকেই অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

পাবনার পিএসএস অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় থেকে এসেছেন হেলালুর রহমান নামের এক শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে আমাদের বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে আমরা শিক্ষকরা নিজেদের টাকা দিয়ে স্কুল পরিচালনা করছি। আমাদের কোনো বেতন-ভাতা নেই। এখন আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমাদের স্কুলে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো হয়। এখন তাদের কী খাওয়াবো সেটি জানি না।’

একই স্কুল থেকে আসা আরেক শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্কুলে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী আছে। তাদের জন্য আমাদের তিনটি মাইক্রোবাস আছে। অথচ টাকার অভাবে আমরা শিক্ষকরা নিজেরা হেঁটে স্কুলে আসি। আমাদের এখন চলার মতো অবস্থা নেই। তাই বাধ্য হয়ে এখানে এসেছি। এমপিওভুক্ত না করে আমরা এখান থেকে যাব না।’

নেত্রকোণার কলমাকান্দা অটিস্টিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমাদের বেতন ভাতা নেই। কষ্ট করে নিজেদের টাকায় স্কুল পরিচালনা করছি। আমাদের পক্ষে এভাবে স্কুল পরিচালনা করা আর সম্ভব হচ্ছে না। সরকার যদি আমাদের স্কুলগুলোকে এমপিওভুক্ত করে তাহলে আমরা স্বস্তিতে থাকতে পারব।’

গাইবান্ধার ফয়জার রহমান মন্ডল বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এনামুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন নিজেদের টাকায় স্কুল পরিচালনা করতে করতে নিজেদের আর্থিক অবস্থাও খারাপ হয়ে গেছে। আমাদের স্কুলে ৩০১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ হাঁটতে পারে না, আবার কেউ কথা বলতে পারে না। তাদের জন্য আমাদেরই পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হয়। তাদের খাওয়ার ব্যবস্থাও আমরা করি। কিন্তু নিজেদের টাকায় এতো শিক্ষার্থীকে এভাবে আর সম্ভব হচ্ছে না।’

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম অপু বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট। আমাদের স্কুলগুলো এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব। এমপিওভুক্তির স্বীকৃতি নিয়েই এখান থেকে আমরা যাব।’

এই বিভাগের সর্বশেষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button