লালমনিরহাটে আদালতে আধুনিকায়ন ! কমেছে ভোগান্তি ও খরচ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গত বছরের শুরুতে অনলাইন আদালত ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন শুরু হয়। বাদী-বিবাদীরা শুনানির তারিখ জানতে পারেন খুদে বার্তার মাধ্যমে।
৮,০১৯

পাটগ্রাম উপজেলা থেকে লালমনিরহাট জেলা সদরে আদালতে যেতে পাড়ি দিতে হয় ১১০ কিলোমিটার। শুধু মামলার শুনানি কবে—এ তথ্য জানতেও বাদী ও বিবাদীদের সরাসরি উপস্থিত হতে হতো আদালতে। তথ্য জানতে মধ্যস্বত্বভোগীদের টাকা দাবির অভিযোগও ছিল। তবে অনলাইন আদালত ব্যবস্থাপনায় মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানোর সেবা চালুর পর অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।।

গত বছরের জানুয়ারিতে লালমনিরহাট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আওতাধীন সব আদালতে ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সার্টিফিকেট আদালতের সর্বমোট ৩ হাজার ৯৭১টি মামলার বিপরীতে ৯ হাজার ২০০ ব্যক্তিকে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তথ্য জানানো হয়েছে।।

এই পদ্ধতিতে আদালতের পক্ষ থেকে মামলার শুরুতেই মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়। কারও মুঠোফোন না থাকলে পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য কারও নম্বর সংগ্রহ করা হয়। এরপর আদালতের পেশকার মামলার তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে মামলার বাদী, বিবাদী, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের অবহিত করেন।।

এই পদ্ধতি চালুর সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)। তিনি বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে লালমনিরহাট জেলা পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার বিস্তৃত। এত দিন মামলা পরিচালনা ও মামলার তথ্য সম্পর্কে জানতে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আদালতে আসতে হতো। এতে তাদের অর্থ ও সময় নষ্ট হতো। এখন অনলাইন আদালত ব্যবস্থাপনার আওতায় সেবাপ্রত্যাশীদের মামলার শুনানির তারিখসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত জানতে অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হয় না। খুদে বার্তায় পাঠানো নির্ধারিত তারিখে আদালতে এলেই হয়।।

আদালতে এই সেবা পাওয়ার কথা জানান পাটগ্রামের বাসিন্দা শামসুল আলম ও মোশাররফ হোসেন নামে দুই ব্যক্তি। তাঁরা বলেন, এখন আর মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে এক শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে আসতে হবে না। এতে টাকা ও সময় বাঁচবে।।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, মামলাসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সেবাপ্রার্থীদের জানতে মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে যাতে দালালদের টাকা দিতে না হয় এবং হয়রানি কমে, সে জন্য প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আদালতের সেবাদানও এগিয়ে গেল।।

এই বিভাগের সর্বশেষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button