কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মান নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ থেকে যেসব কৃষিপণ্য রপ্তানি হয় সেগুলোতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল ইসলাম।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা বিদেশে মাল পাঠাবেন, মান-সম্মানের প্রশ্ন আছে, হাইজিনের প্রশ্ন আছে। বাজার ধরে রাখতে হবে, তাই সেসব মাল যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়।

‘রপ্তানির ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক মান রয়েছে। প্রত্যেকটি মেনে চলতে হবে। না হলে আমাদের মাল অন্যরা নেবে না। তাই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যত্ন করে মাল পাঠাবেন, প্রপার আইন-কানুন মেনে পাঠান, হাইজিন মেনে পাঠান।’

একনেক সভায় কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউসে স্থাপিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরিতে রূপান্তর প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৫৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারপ্রধানের নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে কৃষি থেকে ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়। সঠিকভাবে মান যাচাই করে কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষি রপ্তানি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম আরও বৃদ্ধি পায়। কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আরও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যক্রমে বালাই শনাক্তকরণে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউসের বিদ্যমান ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। সেই সঙ্গে কৃষিপণ্য রপ্তানি ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে সহায়তা করা হবে।

ঢাকার শ্যামপুরে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউস নির্মিত হবে জানুয়ারি ২০২১ হতে ডিসেম্বর ২০২৩ মেয়াদে। প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৩১৫ বর্গফুট বিদ্যমান উদ্ভিদ সংগনিরোধ ল্যাবরেটরি ভবন, ভৌত অবকাঠামো মেরামত, ল্যাবরেটরি (মাইকোলজি, ব্যাকটেরিওলজি, ভাইরোলজি, নেমাটোলজি, মাইক্রোবায়োলজি ইত্যাদি) যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন করা হবে। ১৮০ জন কর্মকর্তাকে স্থানীয় প্রশিক্ষণ এবং ৬ জন কর্মকর্তাকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ সংরক্ষণ কনভেনশনের স্ট্যান্ডার্ড সেটিং বডি কর্তৃক প্রণীত বিধি-বিধান অনুসরণ করার দক্ষতা অর্জন করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

‘কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউসে স্থাপিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরিতে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত হবে।

এই বিভাগের সর্বশেষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button